বিজ্ঞাপন
AD
161×600
স্লাইড 1 / 3
জেলার খবর
খোরশেদ আলম খসরু
বেলকুচি,সিরাজগঞ্জ, প্রতিনিধি |
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
বাজারে মূল্যস্ফীতির হার কমার খবর অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে স্বস্তির প্রশ্নটি আরও সরাসরি—আগের আয়ের টাকায় কি এখন বেশি বাজার করা যাচ্ছে? নিত্যপণ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় মেটানোর পর পরিবারের হাতে কি আগের চেয়ে বেশি অর্থ থাকছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শুধু মূল্যস্ফীতির হার দেখলে চলবে না; পাশাপাশি দেখতে হবে পণ্যের দাম, মজুরি বৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাস্তব চিত্র।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও এই প্রশ্নের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশের তুলনায় এবারের হার সামান্য কম।
মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ কী?
মূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোচনায় একটি বিষয় প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি করে। মূল্যস্ফীতির হার কমা মানেই বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ হলো, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিক ভোক্তামূল্যের বৃদ্ধির হার কমেছে।
ধরা যাক, কোনো পণ্য এক বছর আগে ১০০ টাকায় কেনা যেত। পরের বছর একই পণ্যের দাম বেড়ে ১১০ টাকা হলো। এরপর আরেক বছরে দাম ১১০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হলে মূল্যস্ফীতির হার কমতে পারে, যদিও পণ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। অর্থাৎ দাম বাড়ার গতি কমেছে, কিন্তু দাম আগের জায়গায় ফিরে আসেনি।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও বাজারের উচ্চমূল্যের চাপ থেকে যায়। ফলে মূল্যস্ফীতির হার কমার খবরের পাশাপাশি পণ্যের বর্তমান দাম এবং পরিবারের আয় কতটা বেড়েছে, তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
খাদ্যপণ্যে কিছুটা স্বস্তি, অন্য খাতে চাপ
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বরে সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা বেড়েছে, যদিও খাদ্যবহির্ভূত খাতে সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে এসব হার দিয়ে চাল, ডাল, তেল, মাছ কিংবা সবজির প্রতিটির দাম কত বেড়েছে বা কমেছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। পণ্যভিত্তিক দাম জানতে আলাদা বাজারদর ও মূল্যসূচকের তথ্য প্রয়োজন।
একইভাবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় পোশাক, পরিবহন, বাসস্থান ও বিভিন্ন সেবার ব্যয় নিয়ে আলাদাভাবে অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। এসব খাতের প্রতিটির মূল্যপরিবর্তন এক রকম নয়।
আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ব্যবধান কতটা?
মূল্যস্ফীতির প্রভাব বোঝার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো মজুরি বৃদ্ধির হার। মানুষের আয় যদি পণ্যের দাম বৃদ্ধির তুলনায় ধীরে বাড়ে, তাহলে আয় নামমাত্র বাড়লেও প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
বিবিএসের মজুরি হার সূচকসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। একই সময়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল। [সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ৮ অক্টোবর ২০২৬]
এই ব্যবধান ইঙ্গিত দেয় যে, গড় হিসাবে মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় ভোক্তামূল্য দ্রুত বেড়েছে। ফলে শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে জাতীয় পর্যায়ের মজুরি সূচক দিয়ে প্রত্যেক শ্রমিক, চাকরিজীবী কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আয়-ব্যয়ের অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। কারও আয় বেড়েছে, কারও আয় অপরিবর্তিত রয়েছে, আবার কারও আয় কমতেও পারে। প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে পেশা, আয়ের স্তর এবং পরিবারের ব্যয়ের ধরন বিবেচনা করতে হবে।
শুধু বাজারদর নয়, নীতির কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজারে পণ্যের সরবরাহ, পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ, আমদানি পরিস্থিতি, বিনিময় হার, প্রতিযোগিতা এবং মুদ্রানীতিসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো একটি কারণকে নিশ্চিতভাবে দায়ী করতে হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও গবেষণার প্রয়োজন।
সরকারের জন্য তাই মূল্যস্ফীতির হার কমানোর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা এবং কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সরকারি লক্ষ্যমাত্রা, বাস্তব অগ্রগতি এবং বাজারে তার প্রভাব নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কোনো পদক্ষেপের সুফল কতটা পাওয়া যাচ্ছে, তা নির্ধারণে ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়নের তথ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সামনে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক তথ্য একদিকে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির পুনরায় সামান্য বৃদ্ধির বিষয়টিও সামনে আনে। মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের অবকাশ রয়েছে।
তবে শুধু দুটি সূচকের তুলনা দিয়ে পুরো অর্থনীতির চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য পণ্যভিত্তিক বাজারদর, পরিবারের আয়-ব্যয়ের তথ্য, কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
মূল্যস্ফীতি কমার খবর তখনই সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তির বাস্তব অর্থ বহন করবে, যখন আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান কমবে, প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নাগালের মধ্যে থাকবে এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা উন্নত হবে। অর্থনীতির সাফল্য পরিমাপের ক্ষেত্রে তাই শুধু মূল্যস্ফীতির হার নয়, সেই পরিবর্তনের সুফল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা পৌঁছাচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
[ধারাবাহিক চলবে]
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
331 × 238 px
স্লাইড 1 / 3
অক্টোবর ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি
ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে ডেঙ্গু ও হাম,হামে এখন পর্যন্ত মৃ/ত্যু ৪
ঠাকুরগাঁওয়ে রানীশংকৈলে অজ্ঞাত পুরুষের ম/রদে/হ উদ্ধার
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ময়মনসিংহ সীমান্তে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
মূল্যস্ফীতি কমলেই কি স্বস্তি ফেরে?পরিসংখ্যান ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার হিসাব
লালন থেকে সাঁইজি:গানে গানে মানবতার দর্শন
২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে রোগী ২৫৯,জনবল সংকট নিরসনে উদ্যোগ
সিনিয়র সাংবাদিক এমবি আলমের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
নেত্রকোণায় সাংবাদিককে গু/লি করে হ/ত্যা
ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে ডেঙ্গু ও হাম,হামে এখন পর্যন্ত মৃ/ত্যু ৪
ঠাকুরগাঁওয়ে রানীশংকৈলে অজ্ঞাত পুরুষের ম/রদে/হ উদ্ধার
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ময়মনসিংহ সীমান্তে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
লালন থেকে সাঁইজি:গানে গানে মানবতার দর্শন
২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে রোগী ২৫৯,জনবল সংকট নিরসনে উদ্যোগ
শিবপুরে পুত্রের হাতে পিতা খু/ন সার্টিফিকেট পেলেন এএসআই আরিফুর রহমান
মৌলভীবাজারে পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার সীমান্তে সতর্ক বিজিবি
শ্রীমঙ্গলে এমএসআর সামগ্রী সরবরাহে বিতর্ক,তদন্তের দাবি