En
বেটা ভার্সন

সর্বশেষ

মতামত

অপারেশনের পর জটিলতা, নিউ লাইভ কেয়ার ক্লিনিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবেদক: মোহাম্মদ মাসুদ রানা |

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

News image
ছবি: // প্রতিনিধি

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে অবস্থিত নিউ লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক প্রসূতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।রোগীর শশুর হাবিবুর রহমান জানান, গত ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাতিয়ানগড় গ্রামের ঝাপুপাড়ার গৃহবধূ শারমিন আক্তারকে সন্তান প্রসবের জন্য নিউ লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ভর্তি ও প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সিজার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।তিনি আরও বলেন, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গাইনি চিকিৎসক নিঘাত পারভীন (বিউটি) এবং এনেস্থিসিয়া চিকিৎসক ডা. শরিফুল ইসলাম রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে সিজার অপারেশন করেন। অপারেশন শেষে বাচ্চা আমাদের হাতে দিলেও দীর্ঘ সময় ধরে রোগীর জ্ঞান ফিরছিল না এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রায় এক ঘণ্টা পার হলেও আমাদের রোগীর কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না।

হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, “আমাদের সন্দেহ হলে আমরা চাপ দিলে ক্লিনিকের এক স্টাফ জানান রোগীর অবস্থা ভালো নয়, দ্রুত রংপুরে নিয়ে যেতে হবে। এরপর আমরা বিষয়টি জানতে চাইলে ক্লিনিকের কর্মচারীরা একে একে সরে যেতে শুরু করেন। পরে বাধ্য হয়ে ক্লিনিকের দুইজন স্টাফকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে রংপুরে নিয়ে যাই।রোগীর স্বজনরা জানান, প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আইসিইউ ফাঁকা না থাকায় ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। পরে রংপুর প্রাইম মেডিকেলে নেওয়া হলে পূর্বের ক্লিনিক থেকে রেফার স্লিপ না থাকায় তারা ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে পরিচিতজনদের সহায়তায় ঝুঁকি নিয়ে রাত ৪ টায় ডক্টরস ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়, যেখানে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও জানান স্বজনরা। কয়েকদিন চিকিৎসার পর বর্তমানে রোগীর অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিউ লাইফ কেয়ার ক্লিনিকের মালিক ডা. শামসুজ্জোহা মুকুল একটি সরকারি মেডিকেল হাসপাতালে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সপ্তাহে দুই দিন ছুটি পেলে ওই ক্লিনিকে এসে চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করেন।এ বিষয়ে ক্লিনিক মালিক ডা.শামসুজ্জোহা মুকুলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এনেস্থিসিয়া ডাক্তারের ওভারডোজের কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আমি সেই এনেস্থিসিয়া ডক্টর সরিফুল ইসলামের সাথে একাধিক বার ফোন করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি আমার ফোন ধরতেছেন না, তিনি আরও বলেন, রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে একটি বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন, বৈধ লাইসেন্স, নিবন্ধিত চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জরুরি সেবা ও অপারেশন থিয়েটারের মানসম্মত ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইসিইউ সুবিধা বা জরুরি রেফারেল ব্যবস্থাও থাকতে হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো ক্লিনিকে চিকিৎসা অবহেলা, অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা বা রোগীর জীবনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার মতো ঘটনা প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া, লাইসেন্স বাতিল, অর্থদণ্ড এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

শেয়ার করুন


Asia Post is one of the most popular Bangla online news portals in Bangladesh. We deliver reliable, timely, and in-depth coverage of current affairs, national and international news, special reports, and trending events. With a commitment to accuracy and neutrality, Asia Post aims to keep readers informed with credible journalism and insightful analysis around the clock.

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

Developed by SoftStation71