জেলার খবর
ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের লক্ষাধিক টাকার মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের পুরাতন ভবন ভাঙার পর সেখানকার টিন, কাঠ, কংক্রিটের সিঁড়ি, গাছসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ।সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের উত্তর পাশে অবস্থিত প্রায় ১৩০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি পুরাতন টিনশেড ভবন ভেঙে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি,ভবনটি ভাঙার পর প্রায় ৬৫/৭০টি টিন, ৬৫/৭০টি পুরাতন বেঞ্চের কাঠ, ৩৫/৪০টি কংক্রিটের সিঁড়ি, পুরাতন ফ্যান,মোটর, টিউবওয়েল সহ বিভিন্ন মালামাল কলেজের গুদামঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, গুদামঘরের চাবি অধ্যক্ষের কাছেই থাকায় তিনি বিভিন্ন সময়ে ভ্যান ও ট্রলিযোগে এসব মালামাল নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদ দীর্ঘদিন ধরে কলেজে বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন।
তিনি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে অশোভন আচরন, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্নসাৎ, কলেজের বিভিন্ন ধরনের জিসিনপত্র তথা সম্পদ আত্নসাৎ করায় সহ বিভিন্ন কারনে একাধিকবার স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডাও হয়েছে এমনকি তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হলেও অদৃশ্য কোন শক্তির হস্তক্ষেপে আওয়ামীলীগ এর পদধারী এই অধ্যক্ষকে অপসারন করেননি কর্তৃপক্ষ।স্থানীয় এক ভ্যানচালক শাহাবুল মিয়া জানান, প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন (২৯/৩০ জুন) আগে অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদ তাকে কলেজে ডাকেন। পরে তিনি কলেজ থেকে কিছু পুরাতন কাঠ, টিন ও বাঁশ তার ভ্যানে তুলে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত অধ্যক্ষের বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ কাজের জন্য তিনি ৭০০ টাকা ভাড়া পেয়েছেন বলে দাবি করেন।স্থানীয় বাসিন্দা আবু হান্নান বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদ কলেজের উত্তর দিকে থাকা পুরাতন ভবনের লক্ষাধিক টাকার টিন, কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল ভ্যান ও ট্রলিযোগে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কলেজ মাঠের একটি কাঁঠাল গাছও কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গাছটির মূল অংশ বর্তমানে কোথায় আছে, তা আমরা জানি না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কলেজের ফ্যান, লাইট, মোটরসহ বিভিন্ন সামগ্রীও সুযোগ বুঝে কলেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, এসব কাজ কখনো রাতে, আবার কখনো কলেজ বন্ধের দিন করা হয়েছে।এ বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, কলেজ মাঠের কাঁঠাল গাছটি কেটে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই। পুরাতন ভবনের টিন, কাঠ ও কংক্রিটের সিঁড়ি অধ্যক্ষের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে আমার কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই।অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদ বলেন, কলেজের একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঁঠাল গাছ কাটা হয়েছে। গাছের ডালপালা আমি বাড়িতে নিয়েছি, আর মূল গাছটি একটি স-মিলে রাখা হয়েছে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করা হবে। তবে কলেজের পুরাতন টিন, কাঠ বা অন্য কোনো মালামাল আমি নেইনি।কাঁঠাল গাছ কাটার প্রায় ছয় মাস পরও সেটি কেন ব্যবহার করা হয়নি— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গাছটি ফুলবাড়ীর হাসু মিয়ার ছ-মিল এ সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আঃ সালাম এর সাথে কথা বললে তিনি জানায় যে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নাই। তবে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি যদি সত্য হয় তাহলে তিনি নিয়ম বহিভূত কাজ করেছে।স্থানীয়দের দাবি, কলেজের সম্পদের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
336 × 400 px
স্লাইড 1 / 3
জুলাই ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি
সম্পাদক: প্রকাশক / রুবেল ইসলাম তাহমিদ
ফোন : 01711144421 / 01671112000
ই-মেইল: somoyrubel@gmail.com
somoybanglar is one of the most popular Bangla online news portals in Bangladesh. We deliver reliable, timely, and in-depth coverage of current affairs, national and international news, special reports, and trending events. With a commitment to accuracy and neutrality, somoybanglar aims to keep readers informed with credible journalism and insightful analysis around the clock.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
Developed by SoftStation71