প্রবাসে বাংলা
সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি- ৫ ইউনিটে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদননিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন
টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট একযোগে খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে কপাটগুলো ৬ ইঞ্চি করে উঁচুতে তোলা হয়। এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি সরাসরি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শনিবার সকাল ১০টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১০৪ দশমিক ০৮ ফুট এমএসএল (Mean Sea Level)। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বাঁধের সুরক্ষায় স্পিলওয়ের জলকপাট খোলার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, হ্রদের পানি বৃদ্ধির এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের সবকটিই পূর্ণ শক্তিতে চালু রাখা হয়েছে। এসব ইউনিট থেকে বর্তমানে গড়ে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে—যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের টারবাইনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি হ্রদ থেকে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।আগে থেকেই ছিল প্রস্তুতি: এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে পানি ছাড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের তথ্য প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।এদিকে জলকপাট খুলে পানি ছাড়ার ফলে কর্ণফুলী নদীর নিম্ন অববাহিকা, তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। হ্রদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে জলকপাট খোলার পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে যাতে কোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা ashrafi কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সরজমিনে পরিদর্শন করে জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং নদীতীরবর্তী জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।জেলা প্রশাসকের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনকালে তাঁর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আলমগীর হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলামসহ কাপ্তাই পিডিবি ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।এক নজরে কাপ্তাই হ্রদের পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান:হ্রদের বর্তমান পানির উচ্চতা: ১০৪.০৮ ফুট এমএসএল,হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা: ১০৯ ফুট এমএসএল,খোলা জলকপাটের সংখ্যা: ১৬টি (একযোগে ৬ ইঞ্চি করে)।জলকপাট দিয়ে পানি নিষ্কাশন: ৯,০০০ কিউসেক/সেকেন্ড,টারবাইন দিয়ে পানি নিষ্কাশন: ৩২,০০০ কিউসেক/সেকেন্ড,চলতি বিদ্যুৎ উৎপাদন: ২২২ মেগাওয়াট (৫টি ইউনিটই সচল)
ADVERTISEMENT
970 × 90
1 / 3
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
331 × 238 px
স্লাইড 1 / 3
জুলাই ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি