প্রবাসে বাংলা

মৌলভীবাজারে অবৈধ বালু উত্তোলনে সৃষ্ট বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন

News image

মৌলভীবাজারে অবৈধ বালু উত্তোলনে নদীভাঙন, বাঁধ ধস ও ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রভাবশালী চক্রের লোভে বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রতিবছর মৌলভীবাজারের বন্যা দেখা দেয়। মৌলভীবাজারের রাজনগরে টেংরা ইউনিয়নের মনুনদীর ২টি স্থান উজিরপুর, একামধু ও কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এবং কমলগঞ্জে ধলাই নদীর সীমান্তবর্তী মখাবিল এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর মৌলভীবাজারের মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও অন্যান্য নদী থেকে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর তলদেশ থেকে বাণিজ্যিক ভাবে একটি প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের অনুমোদিত বালুমহালের বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকেও গভীর ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে দুর্বল হয়ে পড়ছে নদীর তীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এর পরিণতিতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন, বাঁধ ধস এবং ভয়াবহ বন্যায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন হাজারো মানুষ।মৌলভীবাজারের রাজনগর, কমলগঞ্জ,ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর একই চিত্র দেখা যায়। নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মানুষের স্বপ্নের গড়া বসতভিটা। কৃষি জমি ধানের ক্ষেত, সবজি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, বাজার, গ্রামীণ সড়ক ও সেতু ক্ষতির মুখে পড়ছে।

বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের ইজারা নেওয়া বালুমহালে নির্ধারিত স্থান থেকে বালু উত্তোলনের কথা থাকলেও বাস্তবে অধিক লাভের আশায় একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশ, বাঁধের পাশ এবং নদীতীর, ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে গভীর ভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে এবং নদীর স্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীব্র আঘাত হানছে বাঁধ ও নদীতীরে। কোটি কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হলেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের আশরাফ আলী জানান, "আমরা প্রতিবছর বন্যার সময় আতঙ্কে থাকি। নদীর পাশ থেকে যেভাবে বালু তোলা হয়, তাতে নদীর পাড় টিকে থাকতে পারে না। একটু পানি বাড়লেই ভেঙে যায়। আমাদের জমি গেছে, বাড়িঘর গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান আহমদ বলেন, এবারের বন্যায় মানুষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ভোগ এড়াতে দ্রুত ও টেকসইভাবে বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান তিনি।মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান, ভারতেও অতিভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে উঠে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে মনু নদীর তিনটি ও ধলাই নদীর সাতটি স্থানে ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, যেসব স্থানে আগে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো অক্ষত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। তফসিলের বাইরে কেউ বালু উত্তোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ADVERTISEMENT

970 × 90

1 / 3

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

জুলাই ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি