জেলার খবর

মুন্সীগঞ্জে বেড়েছে কাঠের ঘরের কদর ৪ থেকে ৪০ লাখে তৈরি হচ্ছে
রুবেল ইসলাম তাহমিদ

রুবেল ইসলাম তাহমিদ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | সময় বাংলার |

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৪০ অপরাহ্ন

News image
ছবি: / প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জে যুগের পর যুগ ধরেই কাঠ ও টিনের ঘরের চাহিদা সবার মাঝেই। এখানকার ধনী,গরিব সহ সব শ্রেণীর মানুষের প্রথম চাহিদা কাঠের ঘর।নান্দনিক ডিজাইন ও নকশা করা এক চলা,দো চলা,তিন চলা ও চৌচলা এক একটি ঘরের প্রকার ভেদে মূল্য এক লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। ইতিমধ্যেই এ কাঠের ঘরকে জিআই পন্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতাহতের পরিমান কমাতে জাপানীরা ইট ও কংকিটের বদলে কাঠের ঘর তৈরি করে।তবে বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘরের প্রচলন শুরু হয় নব্বই দশকে। পদ্মা,মেঘনা,ধলেশ্বরী, রজত রেখা,ইছামতী নদী বেষ্টিত মুন্সীগঞ্জ জেলা।আর ভূ খন্ডটি নিচু হওয়ায় কাঠের ঘর এখানকার মানুষের অন্যতম চাহিদা।

নদী ভাংগনের কবল থেকে সহজেই ঘরগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে স্থাপন করা যায়।এক একটি ঘরে কেটে যায় যুগের পর যুগ।ইদানিং অর্থনৈতিক অবস্থার টালমাটালের কারনে ইট,বালু,সিমেন্ট,রট ও কংক্রিটের  দাম বেড়ে যাওয়ায় কাঠের তৈরি টিনের ঘরের চাহিদা দিন দিন বেরেই চলছে। আর এসব কারনে বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কম বেশি গড়ে উঠেছে ঘরের হাট। লৌহজংয়ের কাটপট্রি,কলাবাগান,নওপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকায় রয়েছে ঘরের হাট। এখানে দেশের ভিবিন্ন জেলার পাইকার ও লোকজন আসছে ঘর কিনতে। নিয়ে যাচ্ছে পছন্দের ঘরগুলো।

নাইজেরিয়ান,শাল,লোহা,সেগুন,গজারি,ইউকেলক্টার,কড়ইসহ বিভন্ন জাতের কাঠ ব্যাবহার হয় এ ঘরে। বাহারি রকমের টিন ও বিদেশী প্লেন সিট দিয়ে দৃষ্টি নন্দন ঘরগুলো দেখলে চোখ জুরিয়ে যায়। ঘরগুলো তৈরি করতে অনেকটা সময় লাগলেও এটি এক যায়গা থেকে অন্য যায়গায় স্থাপন করতে সময় লাগে ১ থেকে ৩ দিন।২৩/১৩ ফুট ২৩ বন্ধের বারান্দাসহ একটি ঘর মূল্য চার থেকে সারে চার লাখ টাকা। নকশা,কাঠ, ও নান্দনিকতার কারনে ঘরের মূল্য বেরে যায়।তিন প্রকারের ঘরের প্রচলন বেশি ২৩ বন্দ,২১ বন্দ ও ১৭ বন্দের। প্রকার ভেটে এক লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার ঘরও রয়েছে এখানে কাঠের তৈরি ঘরগুলো কয়েক বছর ব্যাবহারের পরেও বিক্র করা যায় কেনা দামের কিছুটা মূল্যের ব্যাবধানে।  ঘরের কাঠে বছর বছর মাইট্যা তেল,কাঠের তেল,রং,ও কাঁচা গাবের রস দিলে কাঠ নষ্ট হয়না যুগের পর যুগেও ফলে চাহিদা বাড়ছে টিন-কাঠের নকশাখচিত ঘরের এখানে। ঐতিহ্যবাহী টিন-কাঠের নকশাখচিত ঘর মৃৎ কিংবা তাঁতের মতো শিল্প যেখানে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই করছে এক রকম এখান কার স্থানিয়রা।নকশাখচিত ঘরের চাহিদা বাড়ছে দিনদিন। জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে চাহিদা তৈরি হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায় নদীভাঙনের হুমকিতে থাকা অঞ্চলে। দ্রুত স্থানান্তরযোগ্য এবং টেকসই হওয়ায় ক্রেতারা বেশি কিনছেন ঘরগুলো। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে লাভের পরিমান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে অনেকের।   

স্থানান্তরযোগ্য দৃষ্টিনন্দন এসব ঘরের দেখা মেলে জেলার প্রায় সব জায়গায়। সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী এবং লৌহজংয়ের কাঠপট্টিতে এমন ঘর তৈরির যতো কর্মযজ্ঞ। আকৃতি ভেদে একেকটি ঘর তৈরিতে ৬ থেকে ৮ জন শ্রমিকের সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ দিন। কারিগরা বলছেন, এসব ঘরের স্থায়ীত্ব ৩০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত।  ঘর তৈরির কারিগর মোবারক  হোসেন বলেন, তিন/ চার  বছর ধরে ঘরের চাহিদা বেড়েছে। আগে মাসে চার থেকে পাঁচটি ঘর বিক্রি হতো। বর্তমানে ১০ থেকে ১২টি ঘর বিক্রি হচ্ছে।

ঘর তৈরি করে রাখা যাচ্ছে না। ক্রেতারা দরদাম করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন  টিন ও প্লেনশিট দিয়ে তৈরি বাহারি নকশার ঘরগুলো, বাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে।আকৃতি ও ধরন অনুযায়ী একেকটি ঘর বিক্রি হয় আড়াই থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত। 

স্থানান্তরযোগ্য হওয়ায়, নদীভাঙন এলাকার মানুষের কাছে এগুলোর জনপ্রিয়তা বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা বাড়ায় লাভের অংকও বাড়ছে। পাশাপাশি, অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।ঘর ব্যবসায়ী করিম মিয়া বলেন, মূলত ঘরের নকশা, নান্দনিকতার জন্য ঘরের কদর বেশি। সাধারণ থেকে বিত্তবান ও শৌখিন মানুষেরা প্রতিদিন ঘর কিনতে আসেন।লৌহজং, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ফারজানা ববি মিতু বলেন, ভবিষ্যতে এই খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা ভাবছে প্রশাসন। জিআই পন্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হউক মুন্সীগঞ্জের কাঠের ঘর। এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর ও রয়েছে সে বিষয় চিন্তা করে,  জি আই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় সে ক্ষেত্রে আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি -দৃষ্টিনন্দন এসব টিনের ঘরের বেশিরভাগ ক্রেতা মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর ও কক্সবাজারের।

ULTRA

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

জুলাই ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি