জাতীয়
চলনবিলে ডিঙির রাজত্ব,হাটে হাটে জমজমাট নৌকার বাজারস্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
সময় বাংলার |
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের গুরুদাসপুর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই ও নন্দকুজা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কূল ছাপিয়ে পানি বিস্তীর্ণ চলনবিলাঞ্চলে প্রবেশ করায় চারদিক এখন পানিতে টইটুম্বুর। জলমগ্ন বিলপাড়ের বাসিন্দাদের যাতায়াত এবং জীবিকার তাগিদে মাছ ধরার প্রধান বাহন হিসেবে তুঙ্গে উঠেছে ডিঙি নৌকার চাহিদা। ফলে স্থানীয় নৌকা তৈরির কারখানা ও হাটগুলোতে এখন বেচাকেনার ধূম পড়েছে।
সরেজমিনে চলনবিলাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ নৌকার মোকাম উপজেলার চাঁচকৈড় ঘুরে দেখা যায়, দিনরাত এক করে ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকা কারিগররা। ভৌগোলিক সুবিধা ও কাঠের সহজলভ্যতার কারণে চাঁচকৈড় হাটের দক্ষিণাংশে অন্তত ১৫ থেকে ১৮টি কারখানায় সারা দিন হাতুড়ি, লোহা, করাত ও প্লেনশিট কাটার পরশ কাটছে।
শিমুল, ইউক্যালিপটাস, মেহগনি, কাঁঠাল, আম, বট ও নিমগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি সারি সারি ডিঙি নৌকা সাজিয়ে রাখা হয়েছে সড়কের পাশে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা আকার, কাঠের মান ও কারিগরি নৈপুণ্য দেখে দরদাম করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পছন্দের নৌকা।
হাটে হাটে কারিগর ও বিক্রেতাদের ব্যস্ততা: জানা গেছে, সপ্তাহে দুই দিন শনিবার ও মঙ্গলবার এই হাটে শত শত ডিঙি নৌকা কেনাবেচা হয়। ব্যবসায়ী, মিস্ত্রি ও ক্রেতাদের হাঁকডাকে এখন মুখরিত পুরো এলাকা। বর্ষার এই সময়ে কাজ হারানো প্রান্তিক কৃষক ও জেলেরা নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অন্যদিকে আড়তদার ও মহাজনেরা আগে থেকেই কাঠ সংগ্রহ করে রাখায় মৌসুমের শুরুতেই নৌকা বিক্রির পসরা সাজাতে পেরেছেন।
বর্তমানে বাজারে সাধারণ ডিঙি নৌকা ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায় এবং প্লেনশিটযুক্ত বিভিন্ন আকারের নৌকা ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারখানার মালিক ইয়ারুল, শামীম, জাহাঙ্গীর হোসেন, মনিরুল ও আমিরুল জানান—কাঠ, লোহা, প্লেনশিটসহ সব ধরনের কাঁচামালের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফলে আগের মতো লাভ না থাকলেও বর্ষা মৌসুমের চাঙ্গা চাহিদার কারণে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছে।
কারিগর আলাউদ্দীন, পরিতোষ, আবদুল মজিদ ও মাসুদ মোল্লা জানান, গত বছর চলনবিলে পানি কম থাকায় নৌকার বিক্রি খুব মন্দা ছিল। তবে এবার পরিস্থিতি একদম ভিন্ন। গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিটি নৌকা বানিয়ে তাঁরা এক হাজার টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন। বাজারে শিমুল, আম, মেহগনি ও ইউক্যালিপটাস কাঠের নৌকার কদরই সবচেয়ে বেশি।
ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া ও বাজারদর: পার্শ্ববর্তী সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া গ্রামের আসমত, তাড়াশের লালুয়া মাঝিরা গ্রামের মুক্তার হোসেন, গুরুদাসপুরের রুহাই গ্রামের হাবিবুর ও চাটমোহরের চরনবীন গ্রামের শাহাদাৎ জানান, বর্ষায় বিলে কাজ থাকে না বললেই চলে। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত কিংবা বিলে মাছ ধরে বাড়তি আয়ের জন্য তারা নৌকা কিনতে এসেছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার নৌকার দাম কিছুটা বেশি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
নৌকা ব্যবসায়ী শিবলু ফকিরের ভাষ্যমতে, চলনবিলে এবার আগাম পানি প্রবেশ করায় নৌকার চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। সাধারণ মানের ১০-১২ হাতের নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় এবং ১২-১৫ হাতের নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। তবে স্থায়িত্ব বাড়াতে প্লেনশিট ব্যবহারে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে আরও অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা। প্রতি নৌকায় গড়ে ৫০০ টাকা লাভে বিক্রি করছেন তাঁরা।চাঁচকৈড় হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম মিঠু ও উপজেলা ফার্নিচার পট্টি মালিক সমিতির সভাপতি শামীম জানান, চাঁচকৈড় হাটের তৈরি ডিঙি নৌকার সুনাম চলনবিলজুড়ে সুবিদিত। প্রতি হাটে গড়ে ১০০ থেকে ১২০টি নৌকা বিক্রি হলেও সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা মানসম্মত নৌকা কিনতে এই হাটে ছুটে আসেন।
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
331 × 238 px
স্লাইড 1 / 3
আগস্ট ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি