বিজ্ঞাপন

AD

161×600

জেলার খবর

জু/য়ার প্রতিবাদ করে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন কলেজ শিক্ষক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,

সময় বাংলার |

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন

News image
ছবি/ প্রতিনিধি

মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় আলোকীত লালমনিরহাটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরিফুল ইসলাম(৩৫) নামে এক কলেজ শিক্ষক। টানা ৮দিন ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসায়ও জ্ঞান ফিরেনি তার।কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। তিনি লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদক জুয়া বাল্যবিয়েসহ নানান সামাজিক অপরাধ দমনে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু আলোকীত লালমনিরহাট নামে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেন। এ সামাজিক আন্দোলনের কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। ওয়ার্ড থেকে মুল কমিটিতে শিক্ষকসহ সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এরই ধারা বাহিকতায় লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের মাদক ও জুয়া চক্রকে সতর্ক করেন এবং এসব থেকে সড়ে আসার আহবান জানান। তার গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই গ্রামের হাসান আলী, মেহেদী হাসান, পারভেজ, মমিন মিয়া ও হৃদয় মিয়াসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে একটি বড় অনলাইন জুয়া পরিচালিত হচ্ছে। এ খবরে তাদেরকে ডেকে নিয়ে সতর্ক করে এসব থেকে সড়ে আসার আহবান জানান কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম। সড়ে না এলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করার ঘোষনা দেন তিনি। সমাজ থেকে সামাজিক অপরাধ দমনের এ ঘোষনা কাল হয়ে দাঁড়ায় কলেজ শিক্ষকের।

গত ১ আগস্ট প্রতিদিনের মত কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম। এ সময় আগে থেকে ওৎপেঁতে থাকা রহিদুলের নেতৃত্বে জুয়া চক্রটি দেশি অস্ত্রে শিক্ষক আরিফুলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আরিফুলের মাথায় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাৎক্ষনিক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। সেখানে অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ৮ দিন ধরে চিকিৎসা করেও জ্ঞান ফিরেনি আরিফুলের। হাসপাতালের আইসিইউ বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন কলেজ শিক্ষক আরিফুল।

এ দিকে গত বৃহস্পতিবার আরিফুলের গর্ভবতি স্ত্রী ক্লিনিকে অস্ত্রপাচার করে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। সমাজ আলোকীত করতে গিয়ে কলেজ শিক্ষক আরিফুলের পরিবার আজ দিশেহারা। অসুস্থ স্ত্রী আর সন্তানের মুখ দেখতে তাদের পাশে থাকার কথা শিক্ষক আরিফুল নিজেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন এভার কেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক ওই গ্রামের একাধিক ব্যাক্তি বলেন, রহিদুলরা চিহ্নিত জুয়ারী। তাদের চক্রে পড়ে এলাকার যুবকরা জুয়ায় সহায় সম্পদ বিনষ্ট করে পথে পথে ঘুরছেন। অনেকেই বাড়ি গাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। জুয়ারী রহিদুলদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা বা হামলা করে। তাই কেউ প্রতিবাদ করে না। আরিফুল শুধু তাদেরকে নয়, সামাজিক অপরাধে জড়িতদের সতর্ক করে ভাল পথে ফেরার আহবান জানান। এটাই কাল হয়েছে তার। জুয়ার প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যার জন্য কুপিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে জুয়ারী চক্রটি।

এ ঘটনায় শিক্ষক আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদি হয়ে পরদিন ২ আগস্ট রহিদুলকে প্রধান করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ৮জন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে তার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকী দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত রহিদুল পলাতক থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষক আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ৮দিন ধরে আইসিইউতে মৃত্যুর প্রহর গুনছে ছেলে। অপর দিকে ২ দিন ধরে ওই ছেলের বউ ক্লিনিকে সিজার করে ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। দুই দিকে দুই রোগী মাঝে আসামীদের হুমকীতে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তা শ্বঙ্কায় রয়েছি। সমাজকে আলোকীত করতে গিয়ে আজ আমার ছেলে অন্ধকারে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা অভিযোগটি তদন্ত করে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছি। মুল অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ULTRA

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

আগস্ট ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি