বিজ্ঞাপন

AD

161×600

স্লাইড 1 / 3

লাইফস্টাইল

ফ্যামিলি কার্ডে-টানাটানির সংসারে স্বস্তি

সময় বাংলার |

সময় বাংলার |

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট |

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

News image
ছবি: গুগল ম্যাপ লাইভ স্যাটেলাইট

তানজিলা বলেন,আমাদের নিজেদের কোনো জমিজমা নেই। স্বামী দিনমজুরি করেন, আর আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করি। কিন্তু সব দিন তো কাজ মেলে না, তাই সংসার চালানো খুব কষ্টের।’তবে এখন দিন কিছুটা বদলেছে। তানজিলা প্রতি মাসে সরাসরি নিজের ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা পান। এখান থেকে ৫০০ টাকা তিনি দুর্যোগের দিনের জন্য জমিয়ে রাখেন, আর বাকি ২ হাজার টাকা দিয়ে সংসারের খাবার-দাবার ও ছোট ছেলের পড়াশোনার খরচ চালান। 

গলাচিপা উপজেলায় সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্পে যে প্রথম ৮০৮ জন এই সুবিধা পাচ্ছেন, তানজিলা তাদেরই একজন।গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজার মো. ইজাজুল হক বলেন, এই উপকূলীয় এলাকার বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র। তাদের আয়ের প্রধান উৎস মাছ ধরা ও কৃষিকাজ। বিশেষ করে তরমুজ চাষের ওপর অনেক পরিবার নির্ভরশীল।

প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকার অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনায় রেখে সরকার এই কর্মসূচি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েক দশকের মধ্যে দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এটি সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে পারে।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি ব্যবস্থার আওতায় আনা। বর্তমানে এসব কর্মসূচি অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা, অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও রয়েছে।সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কর্মসূচিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এতে কর্মসূচিটিকে সরকারের উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

দেশজুড়ে জরিপ, তথ্য সংগ্রহ ও প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য কর্মসূচিতে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ‘সোশ্যাল প্রোটেকশন ফর ইনক্লুশন, রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ কর্মসূচি থেকে আসবে ৯০০ কোটি টাকা। বাকি ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেবে সরকার।

আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিটির উদ্বোধন হবে। এরপর জরিপের সাফল্য ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে ধীরে ধীরে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে এটি সম্প্রসারণ করা হবে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এই সম্প্রসারণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন। এর আগে কিশোরগঞ্জের লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পরিবারগুলোর মধ্যে জরিপের তথ্যভাণ্ডার থেকে তৈরি নতুন সফটওয়্যার ও অ্যাপের পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হবে।

সরকার আগামী কয়েক বছরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি করতে চায়।

মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দেওয়া এক উপস্থাপনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে ৮১ লাখ হবে। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ কোটি ২১ লাখ পরিবারকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে মোট ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুনর্গঠিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিটি যোগ্য পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক নারী সদস্যের নামে টাকা দেওয়া হবে।কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে পরিবারে নারীর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবারের পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতাও বাড়বে।

একই পরিবারের সদস্যরা যাতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় একাধিকবার নিবন্ধিত হতে না পারেন, সে জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কারিগরি দল একটি সমন্বিত ডিজিটাল পারিবারিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি করছে। এতে পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মনিবন্ধনের তথ্য যুক্ত করা হবে।

টাকা দেওয়া হবে টাকাপের সঙ্গে যুক্ত দ্বৈত-ইন্টারফেসের স্মার্ট চিপ কার্ডের মাধ্যমে। টাকাপে বাংলাদেশের জাতীয় খুচরা লেনদেন ব্যবস্থা।

সুবিধাভোগীরা দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের টার্মিনাল ও এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারবেন।টাকা বিতরণের জন্য তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ৩ হাজার ৭২টি শাখা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক তিনটি হলো সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক।

ULTRA

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি