মতামত
ঝাড়ফুঁকের প্রলোভনে চট্টগ্রামে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, কথিত সাংবাদিক ও বৈদ্যসহ ৪ জন গ্রেফতার
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
ঝাড়ফুঁককে কেন্দ্র করে ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির পৃথক মামলা, চারজন আদালতে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় স্বামীকে ফিরিয়ে আনার আশায় ঝাড়ফুঁক করাতে গিয়ে এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সজল কান্তি দাশ ওরফে সজল বৈদ্য (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় গোপনে ভিডিও ধারণ করে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে।শনিবার (২৫ এপ্রিল) সাতকানিয়া থানায় ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।পুলিশ জানায়, ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫) এর ৯(১) ধারায় সজল বৈদ্যকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন (মামলা নং-৩২)।এজাহার সূত্রে জানা যায়, পটিয়া উপজেলার লাউয়ের খীল গ্রামের মছুদা আকতার (৩২) গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ায় সজল বৈদ্যের বাড়িতে যান।
সেখানে তাবিজ-কবচ ও ঝাড়ফুঁকের কথা বলে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।মামলার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত সজল কান্তি দাশকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। তিনি কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।অন্যদিকে, সজল বৈদ্যের স্ত্রী ঝর্না রানী দাশ বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩৩)। অভিযুক্তরা হলেন— বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব গুনাগরী এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), পুকুরিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপুর এলাকার নুরুল আবছার (৪২) এবং আনোয়ারা উপজেলার তৈলার দ্বীপ এলাকার মো. জয়নাল উদ্দিন (৩১)।চাঁদাবাজির মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর ওই নারী বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে তিন ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সজল বৈদ্যের বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে গোপনে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তারা দুই লাখ টাকা দাবি করেন।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নারীর সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগে গোপন ক্যামেরা ছিল, যার মাধ্যমে ঘটনাটি ধারণ করা হয়। পরে এক পর্যায়ে ওই তিনজন কক্ষে প্রবেশ করে টাকা দাবি করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সজল বৈদ্য ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও তারা দুই লাখ টাকার দাবিতে অনড় থাকেন।একপর্যায়ে সজল বৈদ্যের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাদের আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪৪৮, ৫০৬, ৩৮৫ ও ৪১৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে। আটক তিন আসামিকেও আদালতে পাঠানো হয়েছে।সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুরুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত রেজা জয়ন্ত বলেন, “ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটিতে সজল বৈদ্য এবং অন্যটিতে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। চারজনকেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।”চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় মামলাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
Asia Post is one of the most popular Bangla online news portals in Bangladesh. We deliver reliable, timely, and in-depth coverage of current affairs, national and international news, special reports, and trending events. With a commitment to accuracy and neutrality, Asia Post aims to keep readers informed with credible journalism and insightful analysis around the clock.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
Developed by SoftStation71