জেলার খবর
ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে শতশত গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহনকামাল হোসেন নয়ন
কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
টানা বৃষ্টিতে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম অংশে ঢাকামুখী ও চট্টগ্রামমুখী উভয় লেনে এবারও সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় শত শত গর্ত। এসব গর্তে যানবাহনের চাকা পড়ে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। একটু বৃষ্টি হলেই সেগুলো ভরে যায় পানিতে।ব্যস্ততম মহাসড়কটিও একাধিকস্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত থাকায় বৃষ্টির পানি জমে এ মহাসড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় মহাসড়কেই ছোট ছোট পুকুর মহাসড়কে।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ জানায়, টানা বৃষ্টি কারণে মহাসড়কে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, দুই একদিনের মধ্যেই তা সমাধান হয়ে যাবে।তবে চালকরা বলছে বৃষ্টি হলে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক প্রতিবার কেন এমন হবে। নয় ছয় না করে তার স্থায়ী সমাধান দরকার।
মহাসড়কের পাশের ঘাস ও ঝোপঝাড়ের কারণে পানি নিস্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় পানি জমে এ গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিবছর গর্ত গুলে ভরাট করা হলে তা বৃষ্টি হলে আবার সৃষ্টি হয়।মহাসড়কের গর্ত থাকায় তীব্র ধাক্কায় গাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র ভেঙে যায়। আবার অনেক যাত্রী আহত হয় ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বাসচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সড়ক তো মহাসড়ক নয়, যেন মহানরক। এতে যাত্রীবাহী বাসসহ সকল ধরণের যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। প্রতিবছর বৃষ্টিতে মহাসড়কে ছোট-বড় গর্ত হয়। এ অবস্থায় একদিকে যানবাহন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে অন্যদিকে যাত্রীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার প্রায় ৪৫ কিলোমিটার অংশেও একই অবস্থা দেখা গেছে। লাগাতার বর্ষণের প্রভাবে উপজেলার লালবাগ থেকে পদুয়া পর্যন্ত পুরো সড়ক জুড়ে ছোট বড় অনেক গর্ত। এইসব গর্ত কোথাও ছোট আবার কোথাও বড় আকার ধারণ করায় ট্রাক, লরি ও কাভার্ডভ্যানসহ প্রাইভেট গাড়ি বেশ ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে। পুরো গতিতে তো কেউ যেতেই পারছে না বরং গর্ত কাটিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছে চালকরা।
চাকুরী করেন চৌদ্দগ্রাম, প্রতিদিন বাইকে করে কুমিল্লা শহর থেকে আসা যাওয়া করেন সালামান । গতকাল সন্ধ্যার পর চৌদ্দগ্রাম থেকে কুমিল্লা আসার পথে চৌদ্দগ্রাম চান্দুল এলকায় একটা বড় গর্ততে বাইক নিয়ে পড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে । সালমান জানান বৃষ্টির পানিতে মহাসড়কের গর্ত পানিতে ভরাট হয়ে থাকার কারণে গর্ত দেখতে পারি নাই।চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হোসনা আক্তার বলেন কুমিল্লা থেকে চৌদ্দগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন আসা যাওয়া করি। ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবস্থা বর্ষার আগ পর্যন্ত ভালোই ছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় গর্ত দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে গাড়ির চাকা গর্তে পড়লে ধাক্কা লাগে, অনেক যাত্রী আহত হয়।
যমাুনা গাড়ির চালক কোরবান আলী বলেন, কোথাও বা বড় বড় গর্ত কোথাও পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও ছোট ছোট অসংখ্য গর্ত তৈরী হয়েছে। সড়কটির ভাঙার কারণে প্রায়ই গাড়ি বিকল হয়ে দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে। এতে মহাসড়কটিতে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
লরি গাড়ির চালক কিছমত মিয়া বলেন বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। আমি ঢাকা থেকে মালামাল নিয়ে চট্টগ্রাম যাই। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে মহাসড়কের আমজাদের বাজার রাস্তার মাথায় গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে উল্টে যায়। গাড়ি ও গাড়িতে থাকা মালামালের অনেক ক্ষতি হয়েছেপ্রাইভেটকার চালক আবুল কাশেম বলেন, মহাসড়কে ছোট বড় অসংখ্য খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেলায় গর্তগুলো দেখা গেলেও রাতে গাড়ি চালানো ও চলাচল করা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। খানাখন্দের চাকা পড়ার কারণে অনেক ঝাঁকুনি খেতে হয়।’
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী স্টার লাইন পরিবহনের চালক সুজন মিয়া বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণেই এ মহাসড়কে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। বড় বড় গর্তগুলোতে আটকে পড়ার কারণে অনেক সময় গাড়ি বিকল হয়ে যায়। একই কারণে গাড়ির গতি অনেক ধীর হওয়ায় সময় অপচয় হয়, তৈরি হয় যানজট।গর্তের কারণে রাতের বেলায় গাড়ি চালাতে অনেক কষ্ট হয়।এদিকে মহাসড়কে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শতশত ভারী ও হালকা যানবাহন। যানবাহন চলাচলের সময় গর্তে জমে থাকা ময়লা পানি পথচারীদের গায়ে ছিটকে পড়ছে। আর প্রতিনিয়ত এসব ময়লা পানিতে নষ্ট হচ্ছে মানুষের কাপড়-চোপড়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে গর্ত তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। বৃষ্টির কারণে মেরামত করা যায়নি, আশা করি বৃষ্টি বন্ধ হলে দুই এক দিনে সমাধান হয়ে যাবে।
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
331 × 238 px
স্লাইড 1 / 3
জুলাই ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি