জেলার খবর

​বাঁশের সাঁকোয় ২০ বছর
সময় বাংলার |

সময় বাংলার |

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

News image
ছবি: / প্রতিনিধি

​ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার পয়ারী ইউনিয়নে প্রায় ২০ বছর ধরে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করছেন ১০ গ্রামের মানুষ। ফলে উপজেলার গড়পয়ারী ও গুপ্তেরগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী (কালিবাড়ি ঘাট) খরিয়া নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন যাবত এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা নিজেদের অর্থায়নে তৈরি নড়বড়ে ওই বাঁশের সাঁকো। বর্তমানে সাঁকোটির একাংশ ভেঙে যাওয়ায় ছোট যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ইতিপূর্বে এই স্থানে খরিয়া নদী পারাপারে খেয়া নৌকা ব্যবহার করা হতো। পরে যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রায় ২০ বছর আগে উভয় পাড়ের বাসিন্দাদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে বাঁশের খুঁটি ও চাউগাছের ফালি দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই রিকশা, অটো রিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন ও পথচারীরা পারাপার হচ্ছেন। বাঁশ ও চাউগাছের ফালি ব্যবহারের কারণে সাঁকোটি কিছুদিন পরপরই ভেঙে পড়ে। পরে গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে বছরে কয়েকবার এটি মেরামত করতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সাঁকোটির একাংশের পাটাতন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকমে পারাপার হতে পারছেন। কিন্তুুু রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যানগাড়ি এসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। গুপ্তেরগাঁও গ্রামের আবুল বাশার বলেন, পয়ারী ইউনিয়নের সাহাপুর, মাহমুদপুর ও গুপ্তেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের পয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে যেতে ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে এই সাঁকোটিই ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া সাহাপুর, মাহমুদপুর, গুপ্তেরগাঁও, দর্জি পয়ারী, হরিনাদি ও শুনই গ্রামের একাংশসহ প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাওয়ার সংক্ষিপ্ত রাস্তা এটি। বর্তমানে সাঁকোর একাংশ নষ্ট হয়ে পড়ায় প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। গড়পয়ারী গ্রামের হারুণ অর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলের নেতারাকর্মীরা এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। গুপ্তেরগাঁও গ্রামটি শাকসবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য খুবই প্রসিদ্ধ। কিন্তুু স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য সেতু না থাকার কারণে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। ফলে বাড়তি পরিবহন ভাড়া গুনতে গিয়ে কৃষকদের লোকসানের শিকার হতে হয়। পার্শ্ববর্তী ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ ও কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে গড়পয়ারী ও গুপ্তেরগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী খরিয়া নদীর ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, পয়ারী কালিবাড়ি থেকে গুপ্তেরগাঁওগামী সড়কটির উন্নয়ন ও নদীতে একটি সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সড়ক ও অস্থায়ী সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাস্তার উন্নয়ন ও খরিয়া নদীর ওপর ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

ULTRA

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

আগস্ট ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি