জেলার খবর
স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার চান শ্রীমঙ্গলের রহিমামনজু বিজয়, চৌধুরী
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | সিলেট
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
স্বামীর সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ফিরছেন এক বিধবা স্ত্রী। শনিবার সকালে (১ আগস্ট) রহিমা বেগম ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন শহরের ৩ সন্তানের জননী রহিমা বেগম।মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের সুরভী আবাসিক এলাকার রহিমা বেগম অভিযোগ করেন তার স্বামীর মৃত্যুর পর প্রথম স্ত্রীর ছেলেরা তাকে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, ২০০৫ সালে শহরের সুইনগড় এলাকার হাজি ইয়াকুব আলী খাঁন এর সাথে ইসলামী রীতিতে তার বিবাহ হয়। বিয়ের সময় তার স্বামীর আরো ২ স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর ৩ ছেলে ২ মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ২ কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিবাহের পর তার স্বামী শহরের সুরভীপাড়া এলাকায় ৪ শতক জমির উপর ক্রয় করা একটি বাসায় ঘর সংসার করে আসছিলেন। ২০১৪ সালের মে মাসে তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আমাকে মাসিক ৫ হাজার টাকা দেয়ার জন্য স্বামীর প্রথম স্ত্রীর ছেলে মনজুর আলী খাঁনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০২৩ সালে সেই টাকা দেয়া বন্ধ হয়ে যায়।
সম্প্রতি জানতে পারি স্বামীর প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে জুনাব আলী খাঁন ও ছোট ছেলে সাহাদৎ আলী খাঁন আমার সন্তানদের তার পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে ভূয়া একটি ওয়ারিশ নামা তৈরী করেছে। এনিয়ে গত ৩১ মে আমার বড় ছেলে রাশেদ আলী খাঁন তার সৎ ভাইদের বাসায় যায়। এসময় জুনাব আলী খাঁন ও ছোট ছেলে সাহাদৎ আলী খাঁন আমার ছেলেদের ভাই হিসেবে অস্বীকার করে।
একই দিন সন্ধ্যায় শহরে যাবার পথে জুনাব আলী খাঁন, সাহাদৎ আলী খাঁন, ভাইয়ের ছেলে ইমন ও জীবন আমাদের মারধর ও হুমকি প্রদান করে।
এ ঘটনা আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। এছাড়া আমাদের সম্পত্তির বৈধ দাবী নিয়ে আরো দুইটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, বিয়ের রেজিষ্ট্রি কাবিন না থাকার সুযোগে প্রথম পক্ষের ছেলেরা আমার সন্তানদের তাদের পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। হাজী ইয়াকুব আলী খাঁন আমার স্বামী ছিলেন- এর স্বপক্ষে সদর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ, টীকা কার্ড, পৌরসভার নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারী কাগজপত্রে স্বামীর নাম রয়েছে।
রহিমা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ২০০৫ সালে স্বামীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে আমার প্রথম পক্ষের ছেলেরা ৮০ লক্ষ টাকা আত্বসাৎ করে। এ ঘটনায় আমার স্বামী ২০০৫ সালে তিন ছেলেকে ত্যাজ্য করেন। অথচ তারাই আজ আমার এতিম সন্তানদের হক কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী নারী। অনেক কষ্ট করে ছেলে মেয়েদের নিয়ে জীবন নির্বাহ করছি। স্বামীর সম্পত্তির উপর আমার কোন লোভ নেই। কিন্তু পিতার সম্পত্তির উপর এতিম ছেলে-মেয়েদের হক রয়েছে। অথচ প্রথম পক্ষের ছেলেরা সেই হক থেকে আমার সন্তানদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াকুব আলী খাঁন এর প্রথম স্ত্রীর ছোট ছেলে সাহাদৎ আলী খাঁন প্রথমে রহিমা বেগম তার বাবার স্ত্রী বলে অস্বীকৃতি জানালেও এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘রহিমা বেগম সত্যি যদি আমার বাবার স্ত্রী হয়ে থাকেন তাহলে আমাদের কাছে আসুক, আমরা পারিবারিক ভাবে বিষয়টা দেখবো।’
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
331 × 238 px
স্লাইড 1 / 3
আগস্ট ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি