বিজ্ঞাপন
AD
161×600
স্লাইড 1 / 3
বিশ্ব
খোরশেদ আলম খসরু
বেলকুচি,সিরাজগঞ্জ, প্রতিনিধি |
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। বিপরীতে গড় ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। অর্থাৎ আয় দিয়ে ব্যয় মেটানোর পরিসংখ্যানগত হিসাবে প্রতি মাসে ঘাটতি থাকছে ১ হাজার ৭৯৮ টাকা। এই ব্যবধান সামলাতে গত এক বছরে দেশের ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবারকে মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে হয়েছে। গ্রামের পরিবারগুলোর ওপর এ চাপ তুলনামূলক বেশি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘জীবনযাত্রার মান জরিপ ২০২৫’-এ উঠে এসেছে এ চিত্র। জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল জরিপটি পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রাম, শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে ৩ হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জরিপের এসব তথ্যের মিল পাওয়া গেছে।
আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি
জরিপ অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় আয়ের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। অঞ্চলভেদে সিটি করপোরেশন এলাকার পরিবারগুলোর গড় মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা, শহরাঞ্চলে ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা।
২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল ৩২ হাজার ৪২২ টাকা এবং ব্যয় ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসাবে তখন গড় আয় ব্যয়ের চেয়ে বেশি ছিল। নতুন জরিপে চিত্র উল্টে গেছে। তবে দুটি জরিপের সময়কাল ও পদ্ধতির প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে এই পরিবর্তনকে প্রতিটি পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।
শহরের তুলনায় গ্রামে ঋণের চাপ বেশি
বিবিএসের জরিপে দেখা যায়, গত এক বছরে গ্রামাঞ্চলের ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ পরিবার মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঋণ নিয়েছে। শহরাঞ্চলে এ হার ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ।
এখানে বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গ্রামে গড় ব্যয় শহরের তুলনায় কম হলেও ঋণ নেওয়ার হার বেশি। অর্থাৎ ব্যয়ের পরিমাণ একাই আর্থিক সংকটের ব্যাখ্যা দেয় না; আয় কতটা নিয়মিত, কাজের সুযোগ কেমন এবং জরুরি প্রয়োজনে সঞ্চয় ব্যবহারের সুযোগ আছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে জরিপের এই পরিসংখ্যান দিয়ে ঋণ নেওয়ার একক কারণ নির্ধারণ করা যায় না।
মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি
বিবিএসের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ২২ শতাংশে উঠেছে, আগস্টে যা ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। বিপরীতে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ হয়েছে।
একই সময়ে জাতীয় মজুরি হার সূচকে বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধির হার সাধারণ মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশ পয়েন্ট কম। বিবিএসের সূচক অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে ছিল।
এর অর্থ, সূচকভুক্ত শ্রমিকদের মজুরি যে হারে বাড়ছে, গড় ভোক্তামূল্য তার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। ফলে একই পরিমাণ পণ্য ও সেবা কিনতে আয়ের তুলনামূলক বেশি অংশ ব্যয় হতে পারে। তবে মজুরি সূচক দেশের সব পেশা, বেতনভোগী ও ব্যবসায়ীর আয়কে প্রতিনিধিত্ব করে না।
মূল্যস্ফীতি কমলেই কি স্বস্তি ফিরবে?
মূল্যস্ফীতির হার কমা এবং পণ্যের দাম কমা এক বিষয় নয়। মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ সাধারণত দাম আগের তুলনায় ধীরগতিতে বাড়ছে। ফলে আগের বছরগুলোতে দাম বেড়ে যে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি করে যেতে পারে।
আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান পূরণে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবারগুলোর সঞ্চয়, জরুরি ব্যয় সামলানোর সক্ষমতা এবং আর্থিক নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে জরিপে কত পরিবার ঋণ নিয়েছে, তা থেকে তাদের ঋণের মোট পরিমাণ, সুদের হার কিংবা ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না।স্বস্তির হিসাব কোথায়?এই পরিসংখ্যান একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে: অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি সাধারণ পরিবারের জীবনে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে? মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রকৃত মজুরি, কর্মসংস্থান, পরিবারের আয়-ব্যয়ের ব্যবধান এবং ঋণনির্ভরতার প্রবণতাও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।কারণ, কেবল মূল্যস্ফীতির হার কমলেই মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত হয় না। আয় দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো যাচ্ছে কি না, জরুরি প্রয়োজনে ঋণ নিতে হচ্ছে কি না এবং পরিবার সঞ্চয় করতে পারছে কি না—এসব সূচকও মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব অবস্থা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।তথ্য সূত্র ঃবিবিএস,প্রথম আলো,দ্য ডেইলি স্টার,দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বাসস,দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
331 × 238 px
স্লাইড 1 / 3
অক্টোবর ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি
কবিতা,প্রেম ও জীবনের দর্শন
প্রেসক্লাব নকলা'র নতুন কমিটি, সভাপতি রানা, সম্পাদক রিজন
বর্তমান আয় কি মানুষের সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট!কি বলছে পরিসংখ্যান?
ফুলছড়িতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের বর্ণাঢ্য র্যালি ও পরিচিতি সভা সম্পন্ন
শরণখোলায় লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ,আতঙ্কে মাইকিং
জাতীয় পুরস্কারজয়ী সাইমুনকে অভিনন্দন জানালেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এমপি
লৌহজংয়ে ইলিশ শিকার বিরোধী অভিযানে জাল পুড়িয়ে ধ্বংস।
গাছ কাটায় বাধা দেয়ায় হা/ম/লা/র অ'ভিযো'গ,ছাত্রদল নেতা'সহ আটক ২
উত্তাল বঙ্গোপসাগর,সুন্দরবন ও উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে শত শত ফিশিং ট্রলার
পীরগাছায় মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক নিখোঁজ,পরিবারের আকুতি
যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে উৎপাদনে ফিরেছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট
রামপালের দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধে তীব্র লোডশেডিংয়ে,ভারতীয় প্রকৌশলীর বিলম্বে অসন্তোষ
দক্ষিণ কোরিয়ায় শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে,মর্যাদার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শ্রমিকেরা
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের একনেক অনুমোদন চলতি সপ্তাহে
দক্ষিণ কোরিয়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২ বাংলাদেশির মৃ'ত্যু