ধর্ম
ভয়াবহ পাপের কাজ না জেনে কথা বলাসময় বাংলার |
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
যে কোনো বিষয়ে নিশ্চিতভাবে না জেনে অনুমান করে কথা বলা অন্যায়। আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে কথা, সংবাদের সত্যতা ও যথার্থতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আন্দাজে ও অনুমান করে বলতে নিষেধ করেছেন। আরও বড় অন্যায় হলো, না জানা ও ধারণা প্রসূত বিষয়কে সঠিক ও নিশ্চিত বিষয়ের মতো বলা ও বলতে থাকা। এটা প্রচার করা, তর্ক করা। আল্লাহতায়ালা কোরআন কারিমে বলেছেন, ‘যে বিষয়ে তোমার নিশ্চিত জ্ঞান নেই (তাকে সত্য মনে করে) তার পেছনে পড়ো না। জেনে রেখো, কান, চোখ ও অন্তর এর প্রতিটি সম্পর্কে (তোমাদের) জিজ্ঞেস করা হবে।’ সুরা বনি ইসরাঈল : ৩৬
ইসলামি স্কলাররা বলেন, যে বিষয়ে জানা নেই, সে বিষয়ে কথা বলতে গেলে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। এ থেকে নানা ধরনের ফেতনা সৃষ্টি হয়, বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। আপাতদৃষ্টিতে হালকা এ বিষয়টি বড় বড় গুনাহে লিপ্ত হওয়ার ও সমাজ ধ্বংসের অন্যতম একটি কারণ। ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ এক মূলনীতি হলো, নিশ্চিতভাবে না জেনে ধারণা ও অনুমান করে কথা বলা নিষেধ।
জীবনের সব ক্ষেত্রেই এ মূলনীতি মেনে চলা আবশ্যক। ব্যক্তিগত, সামাজিক সব ক্ষেত্রেই না জেনে কিছু বলা ও করা অনুচিত। আমরা অনেক সময় না জেনে বা অসম্পূর্ণ জেনে কোনো বিষয়ে বলি, এ ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা এক রকম। কিন্তু অনেক সময় নিজের ভ্রান্ত যুক্তি ও নিছক ধারণার ভিত্তিতে কথা বলি অথচ ওই ব্যাপারে কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমন কাজ ভীষণ পাপের, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ আল্লাহতায়ালা কোরআন কারিমে বলেছেন, ‘যদি তোমাদের জানা না থাকে, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করে নাও।’ -সুরা নাহল : ৪৩
এ আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়, শরিয়তের কোনো বিষয় যার জানা না থাকবে সে আন্দাজ-অনুমান ও নিজ যুক্তি-বুদ্ধির পেছনে না পড়ে আলেমদের কাছ থেকে জেনে নেবে। কোনো বিষয় না জানলে জেনে নেওয়া একটা সাধারণ বোধের বিষয়, তাতে লজ্জার কিছু নেই।
কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করার কষ্ট করতে রাজি নই। অনেক কারণেই আমরা কোনো বিষয়ে বিজ্ঞজনদের কাছে জানতে চাই না। এর মধ্যে এ দুটি কারণও আছে- অহংবোধ ও আত্মতুষ্টি। অথচ এ দুটি বিষয়ই খুব খারাপ। এদিকে ভালোভাবে না জেনে আন্দাজে বলে বলে ইসলামের নামে নানা কথা বানাতে থাকি। নিজেও ভ্রান্তিকে আঁকড়ে ধরি, অপরকেও বিভ্রান্তিতে ডুবাই।
শুধু ইসলামের নামে নয়, যে কারও নামেই কোনো অসত্য কথা চালানো সর্ববিচারে অন্যায় ও অনৈতিক কাজ। না জেনে কিছু বলা যেমন নিষেধ, না জেনে কিছু করাও নিষেধ। শরিয়তের বিধান না জেনে নিজের ইচ্ছেমতো আমল করার কোনো সুযোগ নেই। এমন ব্যক্তির অনুগামী অন্য কেউ হলে তাদের গুনাহ তার ওপরে বর্তাবে। ইসলাম এক পরিপূর্ণ দ্বীন, এখানে কারও কিছু বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ নেই।
অন্যদিকে সামাজিক ক্ষেত্রে ধারণার ভিত্তিতে কথা বললে পরস্পরে ভুল বোঝাবুঝি হবে, কলহ বিবাদ ছড়িয়ে পড়বে। অন্যের ব্যাপারে অপবাদ দেওয়া হবে, মিথ্যা বলা হবে এবং গীবত করা হবে। এর প্রত্যেকটিই কবিরা গুনাহ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মনোমালিন্য ও ঝগড়ার মূলে রয়েছে, না জেনে আন্দাজে কথা বলা। আল্লাহতায়ালা ধারণার ভিত্তিতে চলতে নিষেধ করে বলেন, ‘হে মুমিনগণ! অনেক রকম অনুমান থেকে বেঁচে থাকো। কোনো কোনো অনুমান গোনাহ। তোমরা কারও গোপন ত্রুটির অনুসন্ধানে পড়বে না এবং তোমাদের একে অন্যের গীবত করবে না।’ -সুরা হুজুরাত : ১২
ধারণার ভিত্তিতে কথা বলা যেমন নিষেধ, তেমনি শোনা কথা বলাও নিষেধ। অনেক সময় আমরা কোনো কথা শুনেই তা প্রচার করতে থাকি। সত্য-মিথ্যা যাচাই করি না। কোরআন-হাদিসে শোনা কথা যাচাই না করে প্রচার করতে নিষেধ করা হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাও বলেছেন, ‘কারও মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই প্রচার করতে থাকে।’ -সহিহ মুসলিম : ৫আল্লাহতায়া--লা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে বিষয়টি অনুধাবনের তওফিক দান করুন। আমিন।
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
331 × 238 px
স্লাইড 1 / 3
আগস্ট ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি