বিজ্ঞাপন

AD

161×600

স্লাইড 1 / 3

বিশ্ব

কক্সবাজার থেকে সাইকেলে নেপাল অভিযানে কাপ্তাইয়ের বীর কুমার

উচ্চপ্রু মারমা

উচ্চপ্রু মারমা

রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

News image
ছবি/ প্রতিনিধি

সি টু হিমালয়াস’ অভিযানে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে নেপালের পথে; লক্ষ্য চার দুর্গম ট্রেইল, দেশবাসীর দোয়া কামনা,কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে স্থলপথ পাড়ি দিয়ে নেপালের দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের তরুণ অভিযাত্রী, সাইক্লিস্ট ও সমাজসেবক বীর কুমার তনচংগ্যা। রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ৮টা ৩৯ মিনিটে কক্সবাজার কবিতা চত্বর বিচ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত ‘সি টু হিমালয়াস (Sea to Himalayas)’ অভিযান।

অভিযানের মাধ্যমে কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে স্থলপথে নেপাল পৌঁছে চারটি দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং ট্রেইল—মানাসলু সার্কিট, অন্নপূর্ণা সার্কিট, অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প (এবিসি) ও এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (ইবিসি)—অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছেন বীর কুমার। পুরো অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি বহন করবেন বাংলাদেশের গর্বের লাল-সবুজের পতাকা।বীর কুমারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে সাইকেলে প্রথমে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। এরপর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে নেপাল সীমান্তে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে শুরু হবে হিমালয়ের দুর্গম পথের মূল অভিযান।

বীর কুমার বলেন, সাধারণত বাংলাদেশের অভিযাত্রীরা বিমানে নেপালে গিয়ে সেখান থেকে সাইকেল বা পর্বতারোহণ অভিযান শুরু করেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন একটু ভিন্ন। বাংলাদেশের সমুদ্রপৃষ্ঠ কক্সবাজার থেকে সাইকেলে স্থলপথে নেপাল পৌঁছে সেখানকার দুর্গম পাহাড়ি ট্রেইল অতিক্রম করতে চান তিনি।বীর কুমার তনচংগ্যা বলেন, “এই অভিযান শুধু আমার ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণের জন্য নয়। এর মাধ্যমে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সৌন্দর্য ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাই। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরাই আমার অন্যতম লক্ষ্য।”

দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর শুরু হয়েছে এই অভিযান। প্রয়োজনীয় অনুমতি, ভিসা ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কাপ্তাই, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও ঢাকায় একাধিকবার ছুটতে হয়েছে তাঁকে। আর্থিক সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যয় থেকে পিছিয়ে যাননি এই তরুণ অভিযাত্রী।অভিযানের প্রস্তুতিতে দেশের পরিচিত সাইক্লিস্ট রাকিবুল ইসলাম এবং পর্বতারোহী বাবর আলীর সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন বীর কুমার।

তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ৯০ দিনের সার্ক স্টিকার ভিসার সময়সীমার মধ্যে পুরো অভিযান সম্পন্ন করা। পাশাপাশি দীর্ঘ পথের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা ও অর্থায়ন নিশ্চিত করাও তাঁর জন্য বড় বিষয়। এ কারণে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেছেন তিনি।বীর কুমার তনচংগ্যা শুধু একজন সাইক্লিস্ট বা অভিযাত্রী নন; দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানবসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক ও ওয়াগ্গা ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবা এবং জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতেও কাজ করে আসছেন তিনি।

এর আগে সাইকেলে ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণ করেছেন বীর কুমার। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে প্রায় ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফেরেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের দীর্ঘতম ক্রস-কান্ট্রি রুট টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং দেশের ৬৪ জেলা সাইকেলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।কক্সবাজার থেকে ‘সি টু হিমালয়াস’ অভিযানে যাত্রা শুরুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাপ্তাই ও রাঙামাটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘ ও কঠিন এই অভিযানে বীর কুমার নিরাপদে সাফল্য অর্জন করবেন এবং হিমালয়ের দুর্গম পথে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনবেন।দেশবাসীর কাছে বীর কুমারের আহ্বান—এই দীর্ঘ ও কঠিন অভিযানের জন্য সবাই যেন তাঁর জন্য দোয়া ও শুভকামনা করেন, যাতে নিরাপদে তিনি তাঁর স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছে বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারেন।

ULTRA

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

অক্টোবর ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি