বিজ্ঞাপন

AD

161×600

জাতীয়

পদ্মায় ইলিশের আকাল, হতাশ জেলেরা
রুবেল ইসলাম তাহমিদ

রুবেল ইসলাম তাহমিদ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | সময় বাংলার |

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

News image
ছবি/ প্রতিনিধি

সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে দীর্ঘ ৬৫ দিন পর নতুন আশায় পদ্মায় ফিরেছিলেন মুন্সীগঞ্জ এর জেলেরা। ভরা মৌসুমে জালে উঠবে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ আশা ছিল তাদের। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মার নামা-ও চাদপুর সাগরের মুখে জালফেলেও মাছ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা।অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মাছের আনাগোনা অনেক কম থাকায় পদ্মায় জেলের জালে ভরা মৌসুমে ইলিশ সরবরাহ কম থাকায় মাওয়া আড়ৎ ও শ্রীনগর বাজারে ইলিশের দামও বেড়েছে। সরজমিনে মাওয়া ঘাটা মাছের আড়ৎ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়আড়তগুলোতে নেই স্বাভাবিক বিকি কিনির ব্যস্ততা।

জেলেদের কেউ জাল গুটিয়ে বসে আছেন, আবার কেউ জাল-দড়ি পরিষ্কার করছেন পদ্মাপাড়ে। তারা জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে যাওয়ার আগে প্রতি বছর পদ্মায়,জাল ছেড়ে কাজের গতি পরিষ্কার করে নিতে হয় এসময়তে জালে মাছ ধরা পরলে বুঝেনিতে হয় সাগরে প্রচুর মাছ পাওয়া যাবে। এবছর অনেকে ধারদেনা করে জাল, দড়ি, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনেছিলেন মজিবুর তিনি । মাছ বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু নদীতে মাছ না পাওয়ায় মূল খরচই উঠছে না। জেলে আহম্মেদ আলি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে অনেক আশা নিয়ে মাছের আসায় গিয়েছিলাম নদীতে। কিন্তু জালে তেমন ইলিশ উঠছে না। নৌকার তেল, বরফ ও শ্রমিকের খরচই ঠিকমতো উঠছে না। এভাবে চললে ঋণের টাকা কিভাবে পরিশোধ করব, বুঝতে পারছি না। সারাদিন জাল ফেলে সামান্য মাছ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এতে আমাদের লোকসান হচ্ছে। ভেবেছিলাম ইলিশ বিক্রি করে খরচ তুলে ঋণ পরিশোধ করব। কিন্তু মাছের দেখা না পাওয়ায় এখন পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

মাওয়া পদ্মা পারের জেলে- মোকলেছুর রহমান, জানান, তার ৩টি মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে তিনি আশা করেছিলেন আগের বছরের মতো প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। কিন্তু এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য বছর অভিযান শেষে অনেক মাছ ধরা পড়েছে এবং আড়তে এসেছে। কিন্তু এবার তার দশ ভাগের এক ভাগ উঠছে না। কীভাবে পরিবার চালাব, মহাজনের দাদনের টাকা বা শোধ করব কীভাবে? পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি।

শ্রীনগর বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। অল্প যে ইলিশ আসছে, তা কিনতেও ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বেশি টাকা। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেই ইলিশ কেনার সামর্থ্য হারাচ্ছেন।আড়ৎ মালিকরা বলছে জেলেদের তথ্যমতে, কোথাও দুই-এক কেজি, আবার কোথাও ২/৩ কেজি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এ পরিমাণ মাছ দিয়ে নৌকার জ্বালানি, বরফ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ তাদের হিসাবে মেটানো কঠিন। তিনি আরো জানান গেল বছরের তুলনায় এবার ইলিশের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এবং দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা এখন বিকল্প হিসেবে পাঙাশ কিনছেন।ফলে চাঁদপুর ও মাওয়া মাছঘাটে পাঙাশের চাহিদা বেড়েছে। বিভিন্ন আড়তে সারি সারি করে পাঙাশ রাখা হয়েছে, এসব মাছের ওজন আট থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত। আকারভেদে প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে।

ULTRA

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

আগস্ট ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি