বিজ্ঞাপন

AD

161×600

জাতীয়

কোস্ট গার্ডের কঠোর অভিযানে: জব্দ হাজার হাজার কেজি মাছ ও অবৈধ ট্রলার
‎ম.ম.রবি-ডাকুয়া

‎ম.ম.রবি-ডাকুয়া

বাগেরহাট, প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

News image
ছবি/ প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ট্রলার, ক্ষতিকর জাল এবং মাছ জব্দ করা হয়েছে।‎দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা এবং সমুদ্রসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট এবং মৎস্য প্রজনন ধ্বংসকারী বেহুন্দী জালের ব্যবহার বন্ধে বাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১টি অবৈধ ট্রলিং বোট, ৭টি ট্রলিং জাল এবং ৫,১৯০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করার পাশাপাশি ৬ জন জেলেকে আটক করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় মার্চ মাসে মোংলা ফেয়ারওয়ে বয়া থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে যুদ্ধজাহাজ সোনার বাংলার অভিযানে ৩টি ট্রলার ও দুই হাজার কেজি মাছসহ ৩৭ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ভোলা ও বরগুনার বিষখালী নদীতে বছরের বিভিন্ন সময়ে চালানো অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে হাজার হাজার কেজি মাছ ও নিষিদ্ধ জাল, যা মূলত কোস্ট গার্ডের নিরবচ্ছিন্ন নজরদারিরই প্রতিফলন।

‎অভিযান সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ভুক্তভোগী সাধারণ জেলে ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, অবৈধ ট্রলিংয়ের কারণে মৎস্য ভাণ্ডার আজ হুমকির মুখে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, কিছু অসাধু চক্র শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ব্যবহার করে জাটকা ও মা মাছ ধ্বংস করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে উপকূলীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। বাঁশখালী ও পাথরঘাটা অঞ্চলের স্থানীয় জেলেরা জানান, অবৈধ ট্রলারগুলো উপকূলের খুব কাছে এসে কারেন্ট ও বেহুন্দী জাল ব্যবহার করায় ছোট মাছের পোনা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না, ফলে বৈধভাবে মাছ শিকার করা ক্ষুদ্র জেলেদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও, অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও বিস্তৃত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎কোস্ট গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মৎস্য প্রজনন মৌসুমগুলোতে অবৈধ ট্রলারের প্রবেশ ঠেকাতে তারা আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাচ্ছেন। বিশেষ করে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ভেসেল ট্র্যাকিং সিস্টেম বা ভিটিএস ব্যবহারের মাধ্যমে নিষিদ্ধ এলাকায় ট্রলারের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল জেলেদের আটক করা নয়, বরং সামুদ্রিক দস্যুতা দমন এবং জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মৎস্য আহরণ পরিবেশ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যাতে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী জাল ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে জেলেরা অবগত হতে পারেন।‎

কোস্ট গার্ডের এই ক্ষিপ্র ও নিয়মিত ভূমিকার ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ মৎস্য আহরণ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে এবং জাতীয় সমুদ্রসম্পদ রক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে কেবল অভিযান নয়, বরং অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান রক্ষা ও মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ULTRA

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

আগস্ট ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি